একটি ভালোবাসার গল্প । valobasar golpo

ভালোবাসার গল্প

একটি ভালোবাসার গল্প
একটি ভালোবাসার গল্প

একটি মেয়ের নাম তানিয়া। জ্ঞান গরিমায় অনন্য, জরুরী রুপসী কন্যা উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, ডাগর ডাগর চোখ বিশিষ্ট তানিয়ার ঘন কালো কেশদাম মাজা ছাড়িয়ে হাঁটু ছুঁইছুঁই করে। হালকা-পাতলা দেহো দেখলে মনে হয় যেন ডানা কাটা পরি। তার রূপ লাবণ্য শুধু ছেলেদেরকেই আকর্ষণ করে না বরং মেয়েরাও তার দিকে চাইয়া থাকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে। অমায়িক ব্যবহার ও ভদ্র আচার-আচরণ তার দৈহিক সৌন্দর্যকে আরো ফুটিয়ে তোলে। মোটকথা শুধু রূপেরই নয় গুণেরও সে অন্যদের চেয়ে অনেক দূরে এগিয়ে,পড়াশোনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ওর নাম থাকে সবার শীর্ষে। তাই অনেক মেয়েরাই ঈর্শা করে আফসোসের স্বরে বলে, আহা যদি তানিয়ার মত হতে পারতাম।
তানিয়া

তানিয়া ধার্মিক পরিবারের মেয়ে। কলেজে আসা যাওয়া করে বোরকা পরিধান করে। সেই সাথে সবসময় চেষ্টা করে শরীয়তের বিধি-বিধান মেনে চলার। যার ফলে রূপে গুনে অনন্য হওয়া সত্বেও, প্রেম নামক পাতানো ফাঁদে কখনো সে পা দেয়নি। অবশ্য এ পর্যন্ত ওর কাছে প্রেমপ্রস্তাব যে আসেনি তা নয়, তবে যখনই তার কাছে কোনো ছেলে কোনো ভাবে প্রেমের পস্তাব দিয়েছে তখনি সে ঘৃণাকরে বলে দিয়েছে, বিবাহের পূর্বে কারো সাথে আমি প্রেম করবো না, কাউকে ভালবাসবো না এটা আমার প্রতিজ্ঞা।

কেননা শরীয়তে তা জায়েয নেই। তবে বিয়ের পরে আমি আমার স্বামীর সাথে প্রেম করবো। তাকে ভালোবাসবো হৃদয়-মন উজার করে, তাকেই বিলিয়ে দেব আমার আপন সত্ত্বা। ফলে তখন তার প্রেমেই হবে আমার প্রেম, সে সময়ের ভালোবাসায় হবে আমার পবিত্র ভালোবাসা।এতে সুখ-শান্তি ও আনন্দে ভরে উঠবে আমাদের দাম্পত্য জীবন। 

তানিয়ার ছিল একটি নিজস্ব ছোট মোবাইল। কে জানে যে, এই মোবাইলটি তার জীবনে ধ্বংস ডেকে আনবে। 
একদিন তার মোবাইলে হঠাৎ রিং বেজে ওঠে!! ফলে খানিক বিরক্ত হলেও অবশেষে ফোনটি রিসিভ করে। সঙ্গে সঙ্গে অপর প্রান্ত থেকে ছেলেকন্ঠে শোনা যায়, আমি সৌরভ। সময় থাকলে আপনার সাথে কিছু কথা বলতে চাই ? 

তানিয়া : আপনার সাথে আমার কি কথা থাকতে পারে, আপনি তো অপরিচিত।
সৌরভ: বারবার রিকুয়েষ্ট করাতে ভদ্রতার খাতিরে তাকে একটু সময় দেওয়া হলো। অনুমতি পেয়ে সৌরভ খুব খুশি হলো, সে বেশ কিছুক্ষণ প্রাণ ভরে কথা বলে তানিয়ার সাথে। কথাবার্তার একপর্যায়ে তানিয়ার রূপলাবণ্য আর দৈহিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করে সৌরৈভ মধুমাখা সাহিত্যের নিপুন ছোঁয়া ওর নানাবিধ গুনের প্রশংসা করতেও ভুলে যায়নি সে। 
তানিয়ার প্রশংসা মানুষ  ছোটবেলা থেকেই করে আসছে, কিন্তু সৌরভ এর মত এত সুন্দর করে তার প্রশংসা আর কেউ করতে পারেনি। সৌরভ মিষ্টি কন্ঠ  দিয়ে তানিয়াকে কাবু করে ফেলল।

আর তানিয়ার ভাবতে লাগল ছেলেদের কন্ঠ কি এতো সুন্দর হয়? আগে তো জানতাম যে, আমার কন্ঠ অনেক সুন্দর। এখন বুঝতে পারলাম  আমার থেকেও আরো অনেক সুন্দর কন্ঠ সৌরভের।

এভাবে কথা বলতে বলতে তানিয়ার ইসলামের  বিধি-বিধানের কথা ভুলে সৌরভের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলল। কয়েক মাস কথা বলতে বলতে ওরা দুজন প্রেম নগরের বাসিন্দা হয়ে গেলো। 

প্রেম নগরের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পর হঠাৎ একদিন তানিয়ারর হুশ ফিরে আসে।ফিরে আসে তার চেতনা তার মনে আবার জাগ্রত হয় বিবাহের পূর্বে প্রেম-ভালোবাসা ইসলাম নিষেধ করেছে। ইসলাম বলেছে বিনা প্রয়োজনে কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে কথা বলা গল্প করা অবৈধ অন্যায় কাজ।
তানিয়া
তানিয়া


অনেক চিন্তায় চিন্তিত হয়ে ভাবলো এখন আমি কি করবো, সৌরভকে কি করবো? সৌরভকে কি ভুলে যাবো? কিন্তু আমিতো তাকে কিছুতেই ভুলতে পারবো না,কারন সে ত এখন কেড়ে নিয়েছে আমার হৃদয়। সৌরভকে ছাড়া তো আমার জীবন অর্থহীন। তাকে ছাড়া আমি এক মুহূর্তও বাঁচতে পারবোনা। তাহলে এখন আমার উপায় কি? আর আমি কি করবো? এ নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায করতেছিল তানিয়া, কিন্তু তাকে বেশিক্ষণ চিন্তা করতে হয়নি,
চিরশত্রু শয়তান তাকে গুনাহের ধারা অব্যাহত রাখার সুন্দর একটি যুক্তি শিখিয়ে দেয়,শয়তান তাকে শিখিয়ে দিলো যে,,,,,,,,,,,,,,,,
বিয়ে আগে কথা বলতে সমস্যা হয়, বিয়ের পূর্বে সৌরভের সাথে কথা বলতে যদি এতই তোমার ভয় হয়,  তাহলে তার সাথে বিয়ের ব্যাপারটা সেরে নিলেই ত হয়। তবেই তো হারাম অবৈধ নাজায়েজ ইত্যাদি কোনো প্রশ্ন আসবে না তোমার মনে।
দুঃখের বিষয় এই যে তানিয়া শয়তানের ফাঁদে  আটকে পরে। ফলে সৌরভকে না দেখে না চিনে তার সাথে ফোনের মাধ্যমে বিবাহর কথা পাকা করে ফেলল এবং সৌরভ তাকে বলল আমরা এখন ফোনের মাধ্যমে বিবাহ করেনেই, তানিয়া সৌরভকে ভালোবাসতো যে, তার এই প্রস্তাবে সে রাজি হয়ে গেল।

প্রথমে অনেক কষ্ট করে তানিয়া তার ভাবিকে রাজি করালো, তারপর তানিয়া ও তার ভাবি দুইজনে মিলে তার আব্বু আম্মুকেও রাজি করিয়ে নিল। 
তানিয়ার পরিবার যখন সৌরভ পরিচয় জানতে চাইল  তখন সৌরভ একটি ভুল ঠিকানা দিল,তার পিতা-মাতা যখন সৌরভের খোঁজ নেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হতে চাচ্ছিল তখন সৌরভের নানা ধরনের অজুহাত দেখালো, তানিয়া সৌরভকে অনেক ভালোবাসতো তাই তার সকল অজুহাত মেনে নিল 2/3 দিনের মাঝেই তাদের বিবাহ  মোবাইল ফোনে সম্পন্ন হল।

এখন তারা স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেকদিন প্রায় থেকে ১০ বার ফোনের মাধ্যমে তাদের কথাবার্তা হয়। তানিয়া এখন সৌরভকে জান বলে সম্বোধন করে এবং সৌরভ তাকে জান বলে ডাকে।  কিন্তু তা শুধু অভিনয়ের জন্য,  সৌরভের এই অভিনয় কখনো তানিয়া বুঝতে পারেনি। মোবাইলে টাকা না থাকলে এবং সৌরভের ফোন আসতে বিলম্ব হলে অস্থির হয়ে তানিয়া নিজের রুমে গিয়ে কান্না শুরু করে দেয় হাউমাউ করে। প্রতিদিন সকালে সৌরভের  কন্ঠে তার ঘুম ভাঙ্গে, যেহেতু সে এখন সত্তিকারের স্বামী হিসেবে সৌরভ কে জানে। তাই তানিয়া কোথায় কোন কাজ করার আগে সৌরভের নিকট ফোনে অনুমতি নিয়ে নেয়। তানিয়ার এসব কান্ড দেখে তানিয়ার বান্ধবীরা  বলে তানিয়া কতইনা স্বামীর ভক্ত।
এই জামানায় এমন স্ত্রী লাখে একটাও মিলে না আসলেই স্ত্রী হলে এমন হওয়াই উচিত।

সৌরভেরর সাথে কথা বলে তাকে নিয়ে কল্পনা করে বেশ সুখেই কাটছিল তানিয়ার দিনকাল। সৌরভকে নিয়ে এত বেশী ভাবতো যে, কোন দিন কত মিনিট তার সাথে কথা বলেছে, তার নিজস্ব ডায়েরিতে লিখে রাখত। শুধু তাই নয় সৌরভের যেসব কথা বেশী ভালো লাগতো তা বাসর রাতে উপহার দেওয়ার জন্য সুন্দর করে লিপিবদ্ধ করে রাখত।

একদিন সকালবেলা সৌরভকে নিয়ে ভাবছে তানিয়া,,,,,,,,,,,,
ঠিক এমন সময় সৌরভের ফোন থেকে কল আসে তানিয়ার ফোনে। তানিয়া বেশ খুশি মনে মোবাইল রিসিভ করে, কিন্তু একি এজে সৌরভ নয়।।।।।।।।।।

এই যে মেয়ের কন্ঠ ,ক্ষনিকের জন্য তানিয়া কিছুটা নৈরাশ হয়ে যায়। পরে স্বাভাবিক হয়ে জিজ্ঞাসা করল কে?  আওয়াজ এলো আমি লিজা। আমি হলাম সৌরভের একমাত্র প্রিয় মানুষ। সৌরভের কাছে আর কখনো ফোন করবে না। আর হ্যাঁ একটা কথা ভালো করে জেনে রাখো সৌরভ এতদিন তোমার সাথে প্রেমের মিথ্যা অভিনয় করেছে, তোমাকে সে অনেক কষ্ট দিয়েছে। যাইহোক বোন চিরদিনের জন্য সৌরভকে ভুলে যাও। না হলে তোমার সারাটি জীবনে কষ্ট করতে হবে। সৌরভকে তুমি কখনো পাবে না। কেননা সে তো তোমাকে মোটেও ভালোবাসে না, আর সে যাকে ভালো  ভালোবাসে তা হলাম আমি। সৌরভের হৃদয় একমাত্র আমি ছাড়া আর কে জয় করতে পারেনি,,,,, পারবেও না। আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। আমাদের এই ভালোবাসা একদিন দুই দিনের নয়, সেই ছোটকাল থেকে। তানিয়া তোমার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে সৌরভের সাথে আমার দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। আমার এসব কথা তোমার হয়তো বিশ্বাস হবেনা আর বিশ্বাস না হলেও করার কিছুই নাই। তাই বোন, আমি জানি আমি যা বলছি সত্যি বলছি একটু মিথ্যা বলেনি, সৌরভ আর আমি একই গ্রামের বাসিন্দা। আমার চেয়ে তুমি সৌরভকে ত আর বেশি চিনবেনা। তাই এখনও বলছি তুমি সৌরভ কে ভুলে যাও, অন্যথায় অনেক কষ্ট পাবে।

তানিয়া জবাবে বলল কিভাবে ভুলে যাব বোন বল?? আমি যে সৌরভকে মনেপ্রাণে ভালোবেসে ফেলেছি ভুলতে পারব না। তুমি আমার সাথে মিথ্যা বলছো, সৌরভ কখনো  অন্য কারো হতে পারে না। সৌরভ আমার শুধুই আমার সে অন্য কারো হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এ বলেই ফোনটা তানিয়া কেটে দিল, এসব কথা শুনে তানিয়ার খুব পানি তৃষ্ণা পেল,মাথা ঘুরিয়ে বিছানায় পড়ে গেল। 

তানিয়ার জ্ঞান ফিরে এলো  সৌরভকে ফোন দিয়ে সমস্ত বিষয়ে অবগত করলো, সৌরভ এসব কথা শুনে উত্তর দিলো, আমি তোমার আছি তোমারি থাকবো। তুমি অন্যের কথায় কোন কান দিও না। এরপর থেকে সৌরভ এক মাস পর্যন্ত তানিয়ার কাছে একবারের জন্যও ফোন দেয়নি।।।  তানিয়া যাতে করে ফোন না দিতে পারে,তাই সে তার ফোন থেকে সিম খুলে রেখে দিল। 


এরপর থেকে তানিয়া দুঃখ-কষ্ট ও পেরেশানিতে পাগলের মতো হয়ে গেছে এবং খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে শুধু চিন্তা করে কবে তার বুকে ফিরে আসবে  সৌরভ। 
বিদায় নিয়েছে তানিয়ার রাতের ঘুম, আস্তে আস্তে তানিয়ার শরীর শুকিয়ে হালকা হয়ে যাচ্ছে চিন্তা করে, তানিয়া তার গুম খাওয়া নষ্ট করে সৌরভের কথা ভাবতে থাকে।।।।।
কষ্টের ভালোবাসা
কষ্টের ভালোবাসা

এক মাস পরে সৌরভ আবার তানিয়ার এর কাছে যখন ফোন করে----------------
*****************
 চলবে কি.......?

আরও পড়ুন -

আশা করি, ভালোবাসার গল্পটি আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি আপনারা  মত দেন, তাহলে বাকি ভালোবাসার গল্পটুকু লিখব ইনশাল্লাহ********

শেয়ার করুন:

No Comment
Add Comment

দয়া করে কমেন্ট নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।

comment url